নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.টিপুকে নিয়ে বহুমুখী ষড়যন্ত্র
রাজনীতিতে ভালো-মন্দের সংমিশ্রণ চিরন্তন। তবে অনেক সময় স্বার্থান্বেষী মহলের ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকে হেয় প্রতিপন্ন করার হাতিয়ার হয়ে ওঠে। বর্তমান সময়ে এমনই বহুমুখী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের শিকার হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব, বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তাকে ঘিরে চলা এসব অপপ্রচারের পেছনে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক চাল ও একটি কুচক্রী মহলের হীন স্বার্থ।
তার রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস।
নারায়ণগঞ্জে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দুর্দিন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ছাত্রদলের রাজনীতির শুরু থেকেই তিনি #নারায়ণগঞ্জ শহরের রাজপথে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজপথে তার আপসহীন ভূমিকা এবং সাংগঠনিক তৎপরতা তৎকালীন সময়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার দৃষ্টিগোচর হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি এই গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে অতীতে বহুবার গ্রেফতার ও কারাবরণের মতো দমনপীড়নের শিকার হতে হয়েছে।
সম্প্রতি #চাষাড়ায় ঘটে যাওয়া একটি আলোচিত ‘শুভ হত্যাকাণ্ড’কে কেন্দ্র করে একটি মহল এডভোকেট টিপুকে জড়িয়ে নানা মুখরোচক অপপ্রচার ও রাজনৈতিকভাবে তাকে মাইনাস করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
অথচ বিভিন্ন তথ্য থেকে প্রাপ্ত অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বাস্তবসম্মত চিত্র। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অতীতের অপরাধমূলক রেকর্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা অতীতে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সন্তানদের অনুসারী হিসেবে আমলাপাড়া ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদক ব্যবসার সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। বিগত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর #ওসমান পরিবারের প্রধান অনুগামীরা পালিয়ে গেলেও রয়ে যায় তাদের অনুসারী ও অনুগত একটি কনিষ্ঠ গ্যাং। বিগত তিন বছর ধরে এই কিশোর অপরাধীরা তাদের বড় ভাইদের ফেলে যাওয়া অপরাধের সাম্রাজ্য ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে নতুন কৌশল ও ভিন্ন রূপ ধারণ করে।
এই অপরাধীদের পেছনের ইতিহাস ও বর্তমান তৎপরতা সম্পর্কে বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দের স্পষ্ট ধারণা না থাকায়, সুবিধাবাদী এই অপরাধীরা বিভিন্ন সময় বিএনপির মিটিং-মিছিল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে মিশে গিয়ে ছবি তোলার সুযোগ নেয়। পরবর্তীতে সেই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের অপরাধ কর্মকাণ্ড ঢাকতে এবং বিএনপির ত্যাগী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা চালায়।
মাদক ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন :
চাষাড়ার আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডটি মূলত মাদক ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ দীর্ঘদিনের পুরনো দ্বন্দ্বের জের ধরেই সংঘটিত হয়েছে বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক কোনো প্রতিপক্ষ বা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দার জন্য কাউকে হত্যা বা বড় ধরনের ক্ষতির প্ররোচনা দিতে পারেন না—এটি রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপন্থী।
ঘটনার পরপরই #এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রশাসনের প্রতি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নেতাকর্মীদের প্রতি ধৈর্য ধারণের আহ্বান ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজের বিরুদ্ধে চলা সাম্প্রতিক ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান #টিপু বলেন, “বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হতে পারে। তবে সত্য কখনো চাপা থাকে না।” এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের যেকোনো উসকানির মুখে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, #বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দেশনায়ক তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে দল ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা কামনা করেছেন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...